Scroll to top

About

আয়কর মেলা: জনবান্ধব কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্খায় আনন্দমুখর এক অনন্য উৎসব

জাতীয় অর্থনীতিতে রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে আয়কর। রাষ্ট্রের ব্যয় নির্বাহসহ সম্পদের সুষম বণ্টন ও সামাজিক বৈষম্য নিরসনে আয়করের ভূমিকা অপরিহার্য। কর সেবা ও কর সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর মাধ্যমে করদাতাদের আস্থা অর্জন ও স্বেচ্ছা পরিপালনের চর্চা বৃদ্ধি কর বিভাগের প্রধান লক্ষ্য। কর সেবার মান বৃদ্ধি ও কর বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। করদাতা ও কর আহরণকারীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরী করা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য। সম্মানিত করদাতাগণ নিয়মিত কর প্রদান করে যাচ্ছেন, এ কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের চিত্র লক্ষ্যণীয়ভাবে পাল্টে গেছে। জাতীয় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন সম্মানিত করদাতাগণই। কর প্রদানকে সহজতর করতে ও কর সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘আয়কর মেলা’ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি অনন্য উদ্যোগ। প্রতিবছর এ মেলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের জনগণের যে বিপুল আগ্রহ তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অভিভূত করে। এ মেলাকে নিয়ে জনগণের উৎসবমুখরতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কর সেবার মানকে উন্নীত ও যুগোপযোগী করতে রাজস্ব বোর্ডকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করছে। আধুনিক বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়নের মহাসড়কে ধাবমান বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে এখন মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার জনকল্যাণকর কর্মসূচির পাশাপাশি মেগা প্রকল্প, যেমন পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান যা আর স্বপ্ন নয়- বাস্তবতা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর আর্থ-সামাজিক অবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। সারা বিশ্বে বিস্ময় সৃষ্টি করে বাংলাদেশ বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য আদর্শ ও নিরাপদ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ যোগান দিয়ে উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে কর অবকাঠামো আরও সুদৃঢ় ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবী। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ইতোমধ্যে আয়কর মেলার মতো বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ চাহিদা পূরণে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আয়কর মেলা আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং জনমুখী করসেবার সৃজনশীল এক আয়োজন। আয়করের মতো নিরস বিষয়কে নিয়ে মেলার আয়োজন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরী করেছে। ২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া আয়কর মেলার পরিধি এবং সেবার পরিসর উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছরের আয়কর মেলার প্রতিপাদ্য হলো—

”কর প্রদানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ
নিশ্চিত হোক রূপকল্প বাস্তবায়ন”

সরকারের রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের জন্যে একদিকে যেমন পর্যাপ্ত রাজস্ব প্রয়োজন, অন্যদিকে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাস করাও জরুরি। সরকারের নীতিমালার সাথে সঙ্গতি রেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রাজস্ব রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। রাষ্ট্রের রাজস্ব ভাণ্ডারে পর্যাপ্ত রাজস্বের যোগান দিতে আয়কর বিভাগে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আধুনিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। কর পরিপালন বিশ্বব্যাপী একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। আয়কর সম্পর্কিত ভীতি দূর করা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিবিড় করসেবা প্রদানের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর বিভাগ ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো আয়কর মেলার মতো অভিনব এই কর্মসূচি উদ্ভাবন করে। মেলা, পালা-পার্বণ, উৎসব, অনুষ্ঠান ইত্যাদি আমাদের বাঙালি সমাজচেতনার অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বাঙালি জাতির উৎসবমুখী চিরায়ত সামাজিক জীবনাচারকে আয়কর আহরণের মতো জটিল বিষয়ের সাথে যুক্ত করে, করদাতাগণকে উৎসবের আমেজে আয়কর প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। মেলা শুরুর প্রথম বছর হতেই আয়কর মেলা সম্মানিত করদাতাদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে। আয়করের মতো আপাত: অজনপ্রিয় একটি বিষয় মেলার উৎসবে কিভাবে রাঙিয়ে তোলা যায়, আয়কর মেলা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আয়কর মেলার বহুমুখী উদ্দেশ্যের মধ্যে একটি দিক হচ্ছে-করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো। বিগত ২০১০ এ শুরু করে ক্রমাগত এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কর পরিপালনের বাধ্যবাধকতা রূপান্তরিত হচ্ছে উৎসবমুখরতায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উপর করদাতাদের শর্তহীন আস্থা ও বিশ্বাসকে অবলম্বন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।