Scroll to top

১৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে আয়কর মেলা, ৫ বছরে রাজশাহী কর অঞ্চলে আয় বেড়েছে দ্বিগুন

১৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে আয়কর মেলা, ৫ বছরে রাজশাহী কর অঞ্চলে আয় বেড়েছে দ্বিগুন



কর অঞ্চল রাজশাহীতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আয়কর আদায় হয়েছিল প্রায় ৩২১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। পাঁচ বছরে আয়কর আদায়ের এই পরিমাণ দ্বিগুনেরও বেশি বেড়েছে। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অথবছরে আয়কর আদায় হয়েছে প্রায় ৭৪১ কোটি টাকা। একই সময়ে বেড়েছে করদাতার সংখ্যাও। আয়কর বৃদ্ধির এই ধারা এবারও ধরে রাখতে চায় রাজশাহী কর অঞ্চল।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) কর অঞ্চল রাজশাহীর সম্মেলন কক্ষে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কমিশনার ড. খন্দকার মোঃ ফেরদৌস আলম। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন যুগ্ম কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কর কমিশনার জাফর ইমাম ও উপ-কর কমিশনার (সদর দফতর-প্রশাসন) আবু নসর মোঃ মাহবুবুজ্জামান। এসময় উপ-কর কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম, মকবুল হাসেন ও নবাব সিরাজউদ্দৌলাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে এবং কর ও আয়কর রিটার্ণ জমা নিতে আগামি ১৪ থেকে ২০ নভেম্বর রাজশাহী কর অঞ্চল আয়োজন করেছে আয়কর মেলার। নগরীর হেলেদানাবাদে করভবন প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই মেলা। এছাড়াও ১৬ থেকে ১৯ নভেম্বর নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম, নাটোর সদরের কানাইখালী এলাকার আয়কর অফিস প্রাঙ্গন, পাবনা জেলা পরিষদের রশিদ হল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে চার দিনব্যাপী আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১৭ ও ১৮ নভেম্বর দু’দিনব্যাপী আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়েছে ঈশ্বরদী ঈক্ষু গবেষণা ইন্সটিটিউট, বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজারের আয়কর অফিস প্রাঙ্গন ও নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি রোডের রোকেয়া কমিউনিটি সেন্টারে। এছাড়া ১৯ ও ২০ নভেম্বর নাটোরের সিংড়া উপজেলা চত্বরের কৃষি হল ঘরেও আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আয়কর মেলার প্রতিটি স্থানে আকরদাতারা তাদের রিটার্ন দাখিল ও ই-রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। নতুন করদাতাদের ই-টিআইএন সনদ প্রদান করা হবে। মেলায় আগতরা আয়কর অধিক্ষেত্র জানতে পারবেন। আয়করদাতাদের রিটার্ন ফরম পূরণে সহযোগিতা করা হবে। মেলা প্রাঙ্গনে ব্যাংক বুথে আয়কর জমা দেয়া যাবে। মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য মেলায় পৃথক ব্যবস্থা থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিবছর আয়কর মেলাতে আয়কর আদায় এবং রিটার্ণ জমা দেয়ার হার বাড়ছে। ২০১৭ সালের আয়কর মেলায় যেখানে ১৬ হাজার ৫১০টি আয়কর রিটার্ণ জমা পড়েছিল, সেখানে গত বছর জমা পড়েছে ২৮ হাজার ৫০৩টি। ২০১৭ সালের মেলা থেকে আয়কর আদায় হয়েছিল ১১ কোটি ৯১ লাখ ৬১ হাজার ৬৪৭ টাকা। গতবছর মেলায় আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৫৩ লাখ ৬ হাজার ৭৪১ টাকা। ২০১৭ সালের মেলায় ৯২১ জন এবং গত বছরের মেলায় ৮৭৫জন ই-টিআইএন গ্রহণ করেছেন। ২০১৭ সালের মেলায় ৪৯ হাজার ৩৫৬ জন সেবা গ্রহণ করেছে। গত বছরের মেলায় সেবা গ্রহণ করেছে ৬৬ হাজার ১৩৬জন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বুধবার (১৩ নভেম্বর) নগরীর সিএন্ডবি মোড়ের শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান মিলনায়তনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে গত অর্থবছরের সর্বোচ্চ আয়কর প্রদানকারীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হবে। এছাড়া ৩০ নভেম্বর করভবন প্রাঙ্গন থেকে আয়কর দিবসের বণ্যাঢ্য র‌্যালি বের করা হবে।

প্রতিবছর কর অঞ্চল রাজশাহীর আয়করদাতা এবং আয়কর আদায়ের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। করদাতা, কর আইনজীবী ও আয়কর অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা মনে করেন, কর কমিশনার ড. খন্দকার মোঃ ফেরদৌস আলমের আন্তরিকতা ও কঠোর মনিটরিং এর কারণে রাজশাহী কর অঞ্চল আয়কর আদায়ে ধারাবাহিকভাবে আগের বছরকে অতিক্রম করছে। তারা জানান, ড. খন্দকার মোঃ ফেরদৌস আলম কর কমিশনার হিসাবে যোগদানের পর নতুন করদাতা খোঁজার পাশাপাশি কর আদায়ের পরিমাণ বাড়াতে আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নিয়ে কর্মকৌশল নির্ধারণ করেন। কর দিতে মানুষের মধ্যে ভীতির ভাব কাটিয়ে পারস্পরিক সর্ম্পক বাড়িয়ে করবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন। নতুন করদাতা সৃষ্টি এবং কর আদায় বাড়াতে করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিবছর তিনি একাধিক কর্মসূচি হাতে নেন। এর সুফল মিলেছে আয়কর আদায়ে, বেড়েছে নতুন আয়কর দাতাও।

তবে কর কমিশনারের দাবি, প্রত্যেকের পারস্পরিক সহযোগিতার কারণেই রাজশাহী কর অঞ্চল প্রতিবছর রেকর্ড পরিমাণ আয়কর আদায়ের সফলতা দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজশাহী কর অঞ্চলে কর্মকর্তার ১৩টি এবং কর্মচারিদের প্রায় ৫০টি পদ শুন্য রয়েছে। ফলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের তাদের নিজ নিজ দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত শ্রম দিতে হচ্ছে। বাড়তি এই শ্রমের সুফল পাচ্ছে রাজশাহী কর অঞ্চল।

কমিশনার ড. খন্দকার মোঃ ফেরদৌস আলম জানান, পরিবর্তিত আয়কর আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন এবং উৎসে কর কর্তন কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটরিং করার জন্য আয়কর আদায়ে সফলতা এসেছে। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ি করমেলাসহ সব কার্যক্রমে করদাতাদের রিটার্ন পূরণে সহায়তা প্রদাসনহ করদাতাদের ওয়ানস্টপ সর্ভিস প্রদান করা হচ্ছে। বছরব্যাপী নানা আয়োজন করায় জনগণের মধ্যে আয়কর প্রদানে সচেতনতা বেড়েছে। ফলে কর আদায়ের পরিমাণও প্রতিবছর বাড়ছে।